
লায়ন সালাম মাহমুদ, এজাহিকাফ টিভি:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সড়ক নির্মাণের জন্য জমির সদ্ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বাইপাস সড়ক নির্মাণ না করা, জলাবন্ধতা নিরসনে নদী বা পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য এলাকাভিত্তিক দীর্ঘ মেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশ দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর মধ্যে উন্নয়ন কাজের সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গক্রমে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখি, একটি রাস্তা তৈরি হলেই তাতে যেকোনো পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল শুরু করে দেয়। কোন রাস্তা দিয়ে কী ধরনের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করবে, তা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, পিচঢালা সড়কের বিকল্প খুঁজতে হবে। কারণ এ ধরনের রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কংক্রিটের ঢালাই করা সড়ক বানানো যায় কি না, তা যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মন্ত্রিসভার বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের বিল আটকে থাকা এবং অর্থ সংকটের কারণে উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আমলে নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ কয়েকজন মন্ত্রী আলোচনায় অংশ নেন। তবে এলজিইডির বিষয়ে আলোচনা হলেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। আলোচনায় সওজ ও এলজিইডির মধ্যে উন্নয়ন কাজের সমন্বয়হীনতার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
আলোচনায় অংশ নেয়া মন্ত্রীরা জানান, কখনো কখনো দেখা গেছে, এলজিইডির অন্তর্ভুক্ত রাস্তা ও কালভার্ট উন্নয়নে কাজ করছে সওজ। আবার সওজের প্রকল্পে কাটছাট করে নিয়ে নিচ্ছে এলজিইডি। আবার কখনো দুটি সংস্থার টানাটানিতে ঝুলে থাকছে গ্রামীণ উন্নয়ন।
এসব জটিলতার পেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য এলাকাভিত্তিক দীর্ঘ মেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও এমন ওভারলেপিং যাতে না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
সূত্র আরো জানায়, সাধারণত পাকা সকড় তৈরিতে ইট ব্যবহার করা হয়। আর ইট তৈরিতে আবাদী জমির মাটি ব্যবহারে যেমন জমি কমে যাচ্ছে, তেমনি ইট পোড়ানোতে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। এছাড়া ইট দিয়ে পাকা রাস্তা তৈরি হলে তা বেশি দিন টেকসই হয় না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি কংক্রিট দিয়ে সড়ক তৈরি ও তা সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন।
Posted by lionsalammahmud on 2014-03-11 03:40:55
Tagged: , google , www.google+ , facebook , flickr , fl , f , twitter , www.hotmail.com , yahoo , y